ফাটল ধরেছে নেইমার ও এমবাপ্পের মাঝে জানা গেল কেন দূরত্ব বেড়েছে দুজনের

চার মৌসুম ধরে পিএসজির সব আশার ভরসা হয়ে ছিলেন তাঁরা দুজন। একই দলবদলে নেইমার জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে কিনেছিল পিএসজি।

স্বপ্ন ছিল এ দুজনই পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হবেন। সে স্বপ্ন পূরণ না হলেও দুই তারকার জুটিটা জমে উঠেছিল দারুণ। ফ্রেঞ্চ ফুটবল আর কালেভদ্রে ইউরোপে নেইমার-এমবাপ্পে জুটি প্রতিপক্ষের বুকে ভয় জাগিয়েছে।

এ মৌসুমে তাঁদের সঙ্গী হয়েছেন লিওনেল মেসি। ‘এমএনএম’-ত্রয়ীর একসঙ্গে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় সবাই। এখন পর্যন্ত মাত্র এক ম্যাচে একসঙ্গে দেখা গেছে তাঁদের।
সে ম্যাচে তিনজনের রসায়নটা খুব জমেনি। কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বলেছেন আরেকটু সময় দিতে। মেসির ছন্দটা এখনো বুঝে উঠতে পারেননি দলের অন্যরা। কিন্তু গতকালের ঘটনার পর দুশ্চিন্তা বাড়তে বাধ্য পচেত্তিনোর।

মেসির সঙ্গে রসায়ন সৃষ্টি তো পরে, এখন যে তাঁকে পুরোনো জুটির ফাটল সামাল দিতে হবে। এমবাপ্পেকে নাকি মাঠে পাস দিতে চান না নেইমার!
গতকাল শনিবার মঁপেলিয়ের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমার ও এমবাপ্পের মধ্যকার দূরত্বটা ভালোভাবেই টের পাওয়া গেছে। ম্যাচে একচ্ছত্র দাপট ছিল পিএসজির।

একের পর এক আক্রমণ করেছেন তাঁরা। কিন্তু প্রথমার্ধে গোল পেতে ইদ্রিসা গানা গের দুর্দান্ত এক শট দরকার হয়েছে তাঁদের। আনহেল দি মারিয়া ও আন্দের এরেরা মাঝমাঠ থেকে একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি নেইমার ও এমবাপ্পে।

ম্যাচে ১৬টি শট ছিল পিএসজির। এর মধ্যে প্রথম ১০ মিনিটেই ছিল ৬টি। কিন্তু জয়ের ব্যবধান ২-০ করতে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে পিএসজিকে।

আক্রমণে নেইমারের সেরা রূপ দেখা গেছে ৮৮ মিনিটে। মাত্রই মাঠে নামা ইউলিয়ান ড্রাক্সলারের প্রথম স্পর্শেই গোল হয়েছে। তবে এমবাপ্পে তেমন ভূমিকাই রাখতে পারেননি। কারণ, এর আগেই তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

ম্যাচে বারবার দেখা গেছে, গোল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন নেইমার ও এমবাপ্পে। আর সেটা করতে গিয়ে সঙ্গীকে পাস দেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না দুজনই।

মাঝেমধ্যে তো পাসের জন্য সুবিধাজনক কোনো জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা না করে একে অপরের সামনে চলে যাচ্ছিলেন।
বেশ কয়েকবারই এমবাপ্পে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার পরও তাঁকে পাস দেননি নেইমার। এর মধ্যে দুবার গোলকিপারকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন এমবাপ্পে। তবু ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ডের দিকে বল বাড়িয়ে দেননি নেইমার।

কিন্তু ৮৮ মিনিটে ঠিকই ড্রাক্সলারকে পাস দিয়ে গোল আদায় করে নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। সে গোল দেখে সবাই বেশ স্বস্তি পেলেও ক্ষুব্ধ হয়েছেন এমবাপ্পে। কানাল প্লুসের ক্যামেরায় দেখা গেছে গোলের পরই এমবাপ্পে পাশে থাকা গানা গেকে বলছে, ‘সে (নেইমার) কিন্তু আমাকে এই পাস দিত না।’

মৌসুমের শুরুতে পুরোনো বন্ধু মেসিকে পিএসজিতে পেয়েছেন নেইমার। ওদিকে মেসি আসার পর পিএসজি ছাড়তে উন্মুখ হয়ে উঠেছিলেন এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদে যেতে চাওয়ার সে চেষ্টায় প্যারিসের ক্লাব ও সমর্থকেরা বেশ ক্ষুব্ধ এমবাপ্পের ওপর। কিন্তু মাঠে ঠিকই গোল করে বা সতীর্থদের দিয়ে গোল বানিয়ে দিয়ে নিজের কাজ করে যাচ্ছিলেন এমবাপ্পে।

গতকাল সেটা আর করা হয়নি তাঁর। এতেই হয়তো আর রাগ আটকাতে পারেননি এমবাপ্পে।
থলের বিড়ালটা কি তবে বেরিয়েই গেল!

সংশ্লিষ্ট খবর