অবশেষে লজ্জাজনক কাজের জন্য বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইল আফগানিস্তান

আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ ঘটেছে লজ্জাজন ঘটনা। ক্রিকেটীয় আইনে মানকাড আউট নিষিদ্ধ নয়, বরং আইসিসি কর্তৃকই অনুমোদিত। তবুও নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানের অসতর্কতার সুবিধা নিয়ে মানকাড করা হয় বলে এই আউটকে অনেকেই বৈধতা দেওয়ার পক্ষে নন। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এমন আউটের শিকার হয়েই আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশের যুবাদের দাপট চোখে পড়ার মত। যার ফলস্বরূপ প্রথম তিন ম্যাচ জিতে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। চতুর্থ ম্যাচে অবশ্য প্রাণপণে লড়েছে আফগানিস্তান।

সিলেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান জড়ো করে ২১০ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং অর্ডার খেই হারালেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন অভিষিক্ত তাহজিবুল ইসলাম।

অর্ধশতক করে তিনি তখন আফগান ক্রিকেটারদের হুমকি হয়ে উঠেছেন। ৩৪ বলে প্রয়োজন ২০ রান, হাতে একটিমাত্র উইকেট- এমন সমীকরণকে সামনে রেখে শেষ উইকেট জুটিতে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা মুশফিক হাসানকে মানকাড আউট করেন আফগান অধিনায়ক নাঙ্গেয়ালিয়া খাটোরে। ম্যাচ ততক্ষণে জমে ক্ষীর, বাংলাদেশের সবাই অপেক্ষায় রোমাঞ্চকর এক জয়ের।

এমন ক্ষণে আফগান যুব দলের অধিনায়কের মানকাডের আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন অনেকেই। ক্রিকেটীয় আইনে মানকাড অবৈধ নয়- তাই আম্পায়াররা ম্যাচের ইতি টানেন সেখানেই। তবে বিতর্কিত এই আউটের মাধ্যমে ম্যাচ জিতে আফগানরা পুড়ছে অনুতাপে।

আর তাই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছে আফগানিস্তান। যুবাদের দলীয় সুত্র জানায়, “আমাদের প্রধান কোচ নাভিদ নেওয়াজের কাছে ওদের কোচ দুঃখপ্রকাশ করেছে। বলেছে- ‘তরুণ ছেলে, ভুল করেছে, বুঝতে পারেনি।’ বাংলাদেশ দলও বিষয়টিকে ক্রিকেটীয় দৃষ্টিতে দেখেছে।”

মানকাড আউট স্বীকৃত হলেও ক্রিকেট বিশ্বের নামজাদা অনেক ক্রিকেটারও এই আউটের বিপক্ষে। তাই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রায়শই দেখা যায়, মানকাড আউটের সুযোগ পেয়েও আউট না করে ব্যাটসম্যানকে শুধু সতর্ক করছেন বোলাররা। আফগান যুবাদের মানকাড নিয়ে দেশের ক্রিকেটে এত হইচই এই কারণেই।

You May Also Like

About the Author: