নেই কোন উইকেট; তবুও ক্রিকেট বিশ্বে প্রসংশায় ভাসছেন মোস্তাফিজ

মিরপুর উইকেট তার জন্য একদম আদর্শ। বল গ্রিপ করছে, থেমে আসছে ব্যাটে, উঁচু-নিচু হচ্ছে। মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ানদের কঠিন পরীক্ষাই দেওয়ার কথা। কিন্তু মোস্তাফিজ যা করে দেখালেন তা প্রত্যাশার মাত্রাও ছাড়িয়ে গেল। অবিশ্বাস্য, অতিমানবীয়, বিস্ময়কর এসব শব্দেও যেন কমতি পড়ছে তার নৈপুণ্য। ম্যাচে কোন উইকেট পাননি মোস্তাফিজ। অথচ বাংলাদেশের ১০ রানের জয়ে তিনিই তো করে দিলেন আসল তফাৎ। তাইতো ক্রিকেট বিশ্বে প্রসংশায় ভাসছেন এই পেসার।

১২৭ রানের পুঁজি সামলাতে ৬ষ্ঠ ওভারে বল হাতে পান মোস্তাফিজ। দেন মাত্র ৩ রান। ১৩তম ওভারে এসে বেন ম্যাকডারমটের ক্যাচ শরিফুল ইসলাম না ছাড়লে প্রথম বলেই পেতে পারতেন উইকেট। উইকেট না পেলেও টি-টোয়েন্টিতে রান আটকে দেওয়ার আসল দাবি মিটিয়েছেন তাক লাগানো বোলিংয়ে। অজিদের ডানা মেলে উড়া থামিয়ে ওই ওভারে দেন মাত্র ১ রান।

তারপরই ওই শেষের ঝলক। মোস্তাফিজের ঝলকে শেষ চার ওভারে অজিদের নাগালে থাকা সমীকরণ পাহাড় হয়ে যাওয়া দেখেছে মিরপুরের বাইশ গজ। ১৭তম ওভারে অ্যালেক্স ক্যারি আর উইকেটে থিতু থাকা মিচেল মার্শকে নাচিয়ে দিলেন মাত্র ৪ রান। শরিফুলের পরের ওভারে মার্শ আউট হলেও ১২ রান চলে আসায় আশা টিকে ছিল অস্ট্রেলিয়ার।

১৯তম ওভারে সেই আশা ধূলিসাৎ একদম করলেন মোস্তাফিজ। ওই ওভার থেকে অজিরা নিতে পারল মাত্র ১ রান। যেকোনো উইকেটে ম্যাচের ১৯তম মাত্র ১ রান দেওয়ার অতিমানবীয় ব্যাপার। ছয়টি বলই করলেন ব্যাক অফ দ্য হ্যান্ড। ব্যাটসম্যান বুঝতে পারছেন, আসছে আরেকটি কাটার, হাতের গ্রিপ দেখছেন তবু করতে পারছেন না কিছুই। অজিদের চূড়ান্ত অসহায়ত্বের এই ছবি দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে গেঁথে থাকার কথা অনেকদিন।

ওই ওভারের পরই খেলা শেষ মূলত শেষ হয়ে গিয়েছিল। শেষ ওভারে শেখ মেহেদীকে পিটিয়ে ১১ রান নিলেও ২২ রান তুলার সমীকরণ মেলাতে পারেনি সফরকারীরা। ৪ ওভার বোলিংয়ে এদিন ১৫ টি ডট দিয়ে মাত্র ৯ রান দেন ফিজ। এতেই ক্রিকেট দুনিয়া মেতে উঠে মোস্তাফিজ বন্দনায়।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো তাদের টুইটে, মোস্তাফিজের প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে, ১৯তম ওভারই মূলত বাংলাদেশকে জিতিয়েছে। কোনো উইকেট না নিয়েও একটি ম্যাচে কীভাবে মাস্টারক্লাস হতে হয় তার উদাহরণ মোস্তাফিজ।

আর এপির একটি খবরে মোস্তাফিজের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, মোস্তাফিজের কাটার ও স্লো ডেলিভারির কারণেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যনরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। তারা বলেছে, মূলত তার বোলিং ইকোনোমির কারণেই ম্যাচটি জিতেছে বাংলাদেশ।

আর আইসিসি বলেছে, ম্যাচের সবচেয়ে চুম্বক ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র এক রান দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

মোস্তাফিজকে প্রসংশায় ভাসিয়েছেন দেশ-বিদেশের ক্রিকেটাররাও। মুশফিক, তামিম থেকে শুরু করে ভারতের ওয়াসিম জাফর, ভিভিএস লক্ষ্মণরাও কার্পন্য করেননি ফিজের বন্দনা করতে।

You May Also Like

About the Author: