সাকিবের গ্যারেজে থাকা সেরা কিছু গাড়ি

বলা হয়ে থাকে, আমেরিকায় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন বলতে কিছু থাকে না। গাছের শিকড়ের মতো ছড়িয়ে থাকা সংবাদমাধ্যম এবং পাপারাজ্জিদের কারণে সবকিছু জনসম্মুখে চলে আসে। কে কোথায় বাড়ি কিনলো, কার গ্যারেজে অমুক মডেলের গাড়ি যোগ হলো, সবই কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ হয়েই যায়। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস কারো ব্যক্তিগত জীবনে এরকম বাঁধা সৃষ্টি করাকে মোটেও ভালো চোখে না। তাই তারকাদের জীবন নিয়ে সবার আগ্রহ থাকলেও পণ্য হিসেবে সেগুলোকে ব্যবহার করা হয় না। আর করা উচিতও নয়। তবে পাঠকদের মনের তৃষ্ণা মেটাতে ছোটখাট কিছু বিষয় তুলে ধরলে বোধহয় সেক্ষেত্রে তারকরাও কিছু মনে করবেন না। সেজন্য বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের গ্যারেজে থাকা সেরা কয়েকটি গাড়ি নিয়েই থাকছে আজকের আয়োজন।

মার্সিডিজ বেঞ্জ সি ক্লাস সেডান


সাকিব সম্পর্কে যারা টুকটাক খবর রাখেন, তাদের অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন যে আমেরিকায় তার শ্বশুরবাড়ি এবং দেশটির উইনকিনসন প্রদেশে তাদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে। সাকিব বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো থেকে উপার্জিত অর্থের সবটুকুই জমা রেখেছেন মার্কিন মুলুকে। তাই সেখানে গাড়ি-বাড়ির পাশাপাশি কিছু ব্যবসা খাতেও বিনিয়োগ রয়েছে তার। ২০২০ সালে জুয়াড়িদের খপ্পড়ে পড়ে যখন ১ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন, তখনো বেশিরভাগ সময় সেখানেই কাটিয়েছেন তিনি। এসময় কোরবানির ঈদে স্ত্রী শিশিরকে মার্সিডিজ বেঞ্জের সি ক্লাস সেডান মডেলের একটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেন সাকিব। আমেরিকার বাজারে যার মূল্য ছিল ৪১,৬০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের এর দাম প্রায় ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজ


মার্সিডিজের পাশাপাশি বিএমডব্লিউ সিরিজের বিলাসবহুল গাড়িগুলোকেও তারকারা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে মনে করেন। সাকিবের গ্যারেজেও এই প্রতিষ্ঠানের সেভেন সিরিজের গাড়ি শোভা পাচ্ছে এবং এটিও কোনো এক বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে তিনি উপহার দিয়েছিলেন। বাংলাদেশে যার দাম প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া বিএমডব্লিউয়ের আই এইট মডেলের একটি স্পোর্টস কারও তার মালিকানায় রয়েছে বলে শোনা যায়। এর বাজার দর ১ কোটি ২০ লাখ ১২ হাজার টাকা।

রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট


মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউয়ের পাশাপাশি রেঞ্জ রোভারের মালিক হওয়ার স্বপ্ন পুষেন অনেকে। সাকিবও এর ব্যতীক্রম নন। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের স্পোর্ট মডেলের গাড়িও রয়েছে সাকিবের মালিকানায়। বাংলাদেশের বাজারে এর মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা।

নিসান এক্সট্রেইল ও টয়োটা প্রাডো


সাকিবের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কেনা গাড়িগুলোর মধ্যে একটি ছিলো জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিসানের এক্সট্রেইল মডেলের স্পোর্টস ইউটিলিটি ভিহিক্যাল (এসিউভি)। ২০০০ সাল থেকে শুরু করে এখনো গাড়িটির নতুন নতুন মডেল আনছে প্রতিষ্ঠানটি। ৫২.৫০ লাখ থেকে ৫৫ লাখের মতো বাজেটে বাংলাদেশে গাড়িটি কেনা সম্ভব। এছাড়াও জাপানের আরেক নামকরা প্রতিষ্ঠান টয়োটার প্রাডো মডেলের গাড়িতে চড়তে দেখা গেছে তাকে। যার দাম প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা।

হোন্ডা সিটি ও ফোর্ড ফিয়েস্টা


সাকিব এই দুইটি গাড়ি বিপিএলের প্রথম দুই আসরে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’- এর পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন। এর মধ্যে হোন্ডা সিটি মডেলের গাড়িটি বিপিএলের প্রথম আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়টসের হয়ে শিরোপা জেতার মাধ্যমে পেয়েছিলেন। যার দাম প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে ফোর্ড ফিয়েস্টা তিনি দ্বিতীয় আসরে পেয়েছিলেন, যেটা কিনতে আপনাকে ১২-১৭ লাখ টাকার মতো খরচ করতে হবে।

তবে বাস্তবে সাকিব এখন পর্যন্ত কয়টি গাড়ি কিনেছেন বা উপহার পেয়েছেন, সেটি তিনি নিজেও ঠিকমতো বলতে পারেন না। এব্যাপারে শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারকে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আসলে আমি ইদানিং অনেকগুলো গাড়ি পাচ্ছি। আমার ‘কার লাক’ বেশ ভালো। আমি মনে করতে পারছি না, আমি সেগুলোর সঙ্গে কি করেছি। খুব সম্ভব, আমি সেগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।’ সুতরাং সাকিবের মালিকানার থাকা সকল গাড়ির তালিকা প্রকাশ করাটা বেশ কষ্টকরই বটে। বাকি আমরা সেরা কয়েকটি গাড়ির মডেল তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র।

You May Also Like

About the Author: