বিসিবিতে জামাই আদর পাচ্ছেন গামিনি ডি সিলভা!

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে একটি বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। যা নিয়ে এখন গরম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি) পাড়া। যাকে নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন বিসিবির প্রধান কিউরেটর মাঙ্গামুনি গামিনি ডি সিলভা।

বিসিবি পাড়ায় গামিনি ডি সিলভা হিসেবে পরিচিত। শ্রীলঙ্কার এই খেলোয়াড় পেশাদারী ক্রিকেট ছাড়ার পর আম্পায়ারিং করেছেন। পরে বিসিবির এক পরিচালকের বিশেষ অনুগ্রহে ২০০৮ সালে বিসিবিতে নিয়োগ পান এ লঙ্কান। টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিসিবিতে কর্মরত আছেন তিনি।

বিসিবিতে বিভিন্ন বিভাগে বিদেশি কোচ, কর্মকর্তা একের পর এক আসে-যায়, কিন্তু নড়চড় নেই গামিনির! অদৃশ্য ক্ষমতাবলে বারবারই তার চুক্তি নবায়ন হয়। তার পারফরম্যান্স ভালো খারাপের বালাইও নেই, এবং তা ধর্তব্যও নয়।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে স্বেচ্ছাচারিতার সর্বোচ্চ নজির এবার দেখালেন গামিনি। যেখানে কর্মক্ষেত্র বাংলাদেশ, বিসিবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন। ছুটি কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় ফিরেননি তিনি। যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে স্ব-শরীরে কাজ করতে পারবেন না মিরপুর স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর।

তিনি নাকি ফোন কলে, ভিডিও কলে পিচ তৈরি করবেন। ভার্চুয়ালি পিচ তৈরির অনন্য নজির গড়বে এবার বিসিবি। ক্রিকেট বিশ্ব এমন কাজ প্রথমবারের মত হতে চলেছে।

গত ২৮ জুলাই (বুধবার) কলম্বো থেকে ঢাকায় আসা এ কিউরেটর এখন আছেন সুরক্ষা বলয়ের বাইরে। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন শর্ত আগেই জানা ছিল যে, সিরিজের আগে সবাইকে ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

তাহলে কোন ক্ষমতায়, কার মদদে সময়সীমা জানার পরও নির্ধারিত সময়ে ফিরেননি গামিনি? এমন প্রশ্ন এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে।

অনেকে আবার এ ঘটনায় বিসিবির অপেশাদার আচরণও দেখছেন। কারণ সিরিজের নিয়ম-নীতি তৈরি হয়ে গেছে, অথচ প্রধান কিউরেটর ঢাকায় নেই! আশ্চর্য হলেও সত্য সেদিকে বিসিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নজর কি ছিল না?

বিশেষ করে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির, যে বিভাগের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত গামিনি। দেশে আন্তর্জাতিক সিরিজ কিউরেটর ফিরছে না, তার ছুটির বিষয়ে পূর্ণ অবগত গ্রাউন্ডস কমিটি। নিশ্চিতভাবেই এখানে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে গ্রাউন্ডস কমিটি।

দায় এড়াতে পারবেন না বিসিবির প্রধান নির্বাহীও। তার অনুমোদন ছাড়া কিউরেটর ছুটি পাওয়ার কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ নিয়ে নানা ব্যস্ততায় প্রধান নির্বাহী পার পেলেও এমন ব্যর্থতা, অপেশাদার কাজে গ্রাউন্ডস কমিটি পুরোই কাঠগড়ায়।

অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট কুলীন দেশের বিরুদ্ধে প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজ। কিন্তু কিউরেটর নেই, কাজ চালাবেন বাংলাদেশের গ্রাউন্ডসম্যানরা। সমর্থকরা বলছেন, তাহলে বিদেশি কিউরেটর রেখে লাভ কি, যদি দেশীয় গ্রাউন্ডসম্যানরাই আন্তর্জাতিক সিরিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারে?

জানা গেছে, মিরপুর স্টেডিয়ামের অভিজ্ঞ গ্রাউন্ডসম্যান কবির এ সিরিজে মূল দায়িত্ব পালন করবেন।

গামিনি প্রসঙ্গে আবার ফেরা যাক। বয়সের ঘর ৬০ পেরিয়ে যাওয়া এ লঙ্কানের বিসিবিতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চেয়ে শক্তিশালী। চাকরি করা কালীন বহুবার বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারকে অপমান করেছেন তিনি। কিন্তু এসবের শাস্তি পাননি। উল্টো জামাই আদর পেয়েছেন।

বিসিবির কাছে গামিনির কদর তামিম ইকবালের চেয়ে বেশি। হ্যাঁ, কয়েক বছর আগে তার বানানো কুৎসিত উইকেটের সমালোচনা করায় জরিমানা গুণতে হয়েছিল ঘরের ছেলে বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ককে।

বাস্তবতা হলো গামিনির উইকেট বরাবরই সমালোচনার মুখে রয়েছে। ২০০৮ সালে ঢাকায় আসার পর ২০০৯ সালে কিউরেটর পদে তাকে স্থায়ী করা হয়। দেশীয় দুই কিউরেটর সহ পিচ বানানোর পরীক্ষা দিয়েছিলেন বিসিবি একাডেমি মাঠে। তারপরই কিউরেটরের দায়িত্ব পান তিনি।

দেশের হোম অব ক্রিকেট মিরপুরের কালচে উইকেট ক্রিকেট ফলোয়ার মাত্রই জানেন। স্লো, লো উইকেটই যার মূল চরিত্র। অথচ দেশী, বিদেশি কিউরেটর নিয়ে পরিচালিত হওয়া চট্টগ্রাম, সিলেট, বিকেএসপিতে ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবসময়ই দেখা যায় রানের জোয়ার। অথচ গামিনির উইকেটে নেই রান। ঘরোয়া অনেক টুর্নামেন্টই বিবর্ণ হয়ে যায় তার বানানো উইকেটে।

এতকিছুর পরও বিসিবিতে বহাল তবিয়তে গামিনি। নেই পারফরম্যান্স, নেই নিয়ম-কানুন মানার বালাই, কিন্তু বিসিবির এক পরিচালকের খুঁটির জোরে এই লঙ্কান প্রতি মাসে ৪ লাখের বেশি বেতন নেন, বাসা ভাড়াও পান।

গামিনির ক্ষেত্রে বিসিবি আদৌ কখনো চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকায় আসতে পারবে কিনা, তাই এখন দেখার বিষয়।

You May Also Like

About the Author: