৪ রানের জন্য বিশ্বরেকর্ড হলো না মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের

এ যেন এক রূপকথার গল্প! মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের এমন পরিস্থিতিতে নেমে হাল ধরার ঘটনা আছে আগেও। কিন্তু এবার সঙ্গী হিসেবে যাকে পেলেন, সেই তাসকিন আহমেদ যে ব্যাটিংটাও পারেন, সেটাই যেন সবার জানা হলো হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে এসে।

এর আগে টেস্টের ১৩ ইনিংসে তাসকিনের সর্বোচ্চ ছিল ৩৩ রান। সেটা ছাড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তো করলেনই, নাম লেখালেন বেশ কয়েকটি রেকর্ডে।
সুযোগ ছিল নবম উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ারও। মাত্র ৪ রানের জন্য সেটা মিস হয়ে গেল। টেস্টের ইতিহাসে এই উইকেটে সর্বোচ্চ জুটিটি ১৯৫ রানের।

১৯৯৮ সালে জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে নবম উইকেটে ১৯৫ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার আর প্যাট্রিক সিমকক্স। মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনের জুটিটি থামল ১৯১ রানে।

তাসকিনকে বোল্ড করে এই জুটিটি ভেঙেছেন জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি স্পিনার মিলটন সাম্বা। ১৩৪ বলে তার ক্যারিয়ারসেরা ৭৫ রানের ইনিংসটিতে ছিল ১১টি বাউন্ডারির মার।
অবশেষে আউট হয়েছেন। তবে আউট হওয়ার আগে ঠিকই কয়েকটি রেকর্ডে নাম জড়িয়েছেন তাসকিন, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে।নবম উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি এখন মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনেরই।

এর আগে এই উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটিতেও ছিলেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। ২০১২ সালে খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে ১৮৪ রানের জুটি গড়েছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

শুধু তাই নয়। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে যে কোনো দলের নবম উইকেটে সবচেয়ে বড় জুটিটি আগে ছিল ১৪৭ রানের। ১৯৯৮ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ওয়াসিম আর মুশতাক আহমেদ এই জুটি গড়েছিলেন।

মাহমুদউল্লাহ-তাসকিন এই রেকর্ডও ভেঙেছেন। অনেক অর্জনের এই জুটির একমাত্র আক্ষেপ হতে পারে, মাত্র ৪ রানের জন্য বিশ্বরেকর্ড মিস করা। সেটা না হলেও, যা হয়েছে, তাতে বিশ্ব ক্রিকেট অনেক দিন মনে রাখবে মাহমুদউল্লাহ-তাসকিনকে।

You May Also Like

About the Author: