৪,৪,৪,৪,৪, ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেছেন লিটন, দেখেনিন সর্বশেষ স্কোর

লিটন দাসের অনবদ্য হাফ সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ার ৯ম ফিফটি তুলে নিয়েছেন এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। ১২ চারের সাহায্যে ৮৮ রানে ক্রিজে আছেন। তার সাথে ক্রিজে আছেন বাংলাদেশের সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৬১ রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ ১১৮ বলে ৪৬ রান আর ১৩৬ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত।

হারারে টেস্টে প্রথম সেশনের চেয়ে দ্বিতীয় সেশনটা অপেক্ষাকৃত ভালো কাটলো বাংলাদেশের। প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ৭০ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় সেশনে ২৬ ওভারে রান তুলেছে ৯৭। উইকেট খুইয়েছে আরও তিনটি।
দ্বিতীয় সেশনে টানা দুই ওভারে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম আর সাকিব আল হাসান আউট হন। পরে হাফসেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলও সাজঘরে ফিরেছেন। তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর লিটন দাস হাল ধরেছেন এরপর

ষষ্ঠ উইকেটে এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ৩৫ রান যোগ করলেও কাটিয়ে দিয়েছেন ১৩ ওভার। বাংলাদেশও তাই বিপদ অনেকটা সামলে উঠেছে। ৬ উইকেটে ১৬৭ রান নিয়ে চা-বিরতিতে গেছে সফরকারিরা। মাহমুদউল্লাহ ১৪ আর লিটন ২৬ রানে অপরাজিত আছেন।

হারারের অনেকটাই অপরিচিত উইকেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। কিন্তু প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়েতে টেস্ট খেলতে যাওয়া সাইফ-শান্তরা যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই ব্লেসিং মুজারবানির দারুণ এক ডেলিভারিতে বোকা বনেন সাইফ। ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন, ব্যাটটা যেন একটু দেরিতে আসে। আর ততক্ষণে বল স্ট্যাম্পে আঘাত হানে সহজেই। টেস্ট ক্যারিয়ারের আট নম্বর ইনিংসে তৃতীয় শূন্যের দেখা পান সাইফ।

নাজমুল হোসেন শান্তও আরও একবার যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, নতুন বলে তিনি বেশ বেমানান। মুজারবানিরই এক ডেলিভারি ডিফেন্ড করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান, মাত্র ২ রান করে।

সেই জায়গা থেকে প্রতিরোধ মুমিনুল আর শান্তর। তৃতীয় উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন তারা। সেই জুটিটি ভাঙে লাঞ্চের একটু আগে। এনগারাভার অফস্ট্যাম্পের চ্যানেলে করা বল সাদনানের ব্যাটে লেগে চলে যায় প্রথম স্লিপে। ৬৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে বাঁহাতি এই ওপেনার তখন ২৩ রানে।

২৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির পর অভিজ্ঞ মুমিনুল-মুশফিকের জুটিটির দিকে তাকিয়ে ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু হতাশ করেন মুশফিক।

মুজারবানির তৃতীয় শিকার হন টাইগার দলের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। লাইন বুঝতে না পেরে হাত উঁচু করে বলটি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন মুশফিক, কিন্তু সেটি আঘাত হানে প্যাডে। আবেদনে সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। মুশফিক খুব একটা খুশি ছিলেন না, কিন্তু রিভিউ না থাকায় ১১ রানেই থামতে হয় তাকে।

এর পরের ওভারেই উইকেট বিলিয়ে দেন সাকিব আল হাসান। নিয়াচির বাইরে থাকা বলটি স্কোয়ার ড্রাইভ করতে গিয়ে এজ হয়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, করেন ৩ রান। ১০৯ রানেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার আগেই অবশ্য হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল। ইনিংসের ২৭তম ওভারে মুজারবানিকে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি পূরণ করেন টাইগার দলপতি। লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে একটি জুটিও গড়তে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বড় হয়নি জুটিটি তারই ভুলে। নিয়াচিকে কাট করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ হন মুমিনুল। ৯২ বলে গড়ে তার ৭০ রানের ইনিংসটিতে ছিল ১৩টি বাউন্ডারির মার।

এরপর হাল ধরেছেন মাহমুদউল্লাহ আর লিটন। দুজনই দেখেশুনে দারুণ খেলে যাচ্ছেন, কোনো ঝুঁকি নিচ্ছেন না। তাই এই জুটিতে ভর করে পুঁজিটা বড় করার আশায় টাইগাররা।

You May Also Like

About the Author: